ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিনাঞ্চলের "বারী" শহরে একটি বাসের সাথে তার ইলেকট্রনিক স্কুটারের (মনোপাত্তিনো) সংঘর্ষে মারা যান তিনি। এনিয়ে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিনের মত কাজ শেষ করে জিয়া মনোপাত্তিনো চালিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। এসময় শহরের কোরসো ভিত্তোরিও এমানুয়েলে ও পিয়াচা মাসসারির মাঝামাঝি স্থানে এলে, তার মনোপাত্তিনোর সাথে ওই এলাকার গণপরিবহন সংস্থা আমতাবের (AMTAB) একটি বাসের সংঘর্ষ হয়।
নিহত জিয়াউর রহমান দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করতেন।
তবে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনার পরপরই শোক প্রকাশ করেছে আমতাব কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এছাড়াও দুর্ঘটনার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের সাথে অভ্যন্তরীণ যাচাই শুরু করেছে আমতাব। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যদিও চালক ও স্থানীয়রা দাবী করছে যে বাসটি সঠিক নিয়মে চলছিলো। ইন্ডিকেটর লাইট জ্বালিয়ে ডান দিক মোড় নেবার সময় জিয়া অসাবধানতা বসত বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হন।
এঘটনায় রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক শোক জানিয়ে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছি। তারা তাদের নিয়মানুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।’
এছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটি ও দূতাবাসের সহায়তায় জিয়াউর রহমানের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
জিয়াউর রহমানের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনীতে। তার মৃত্যুতে তার দেশের বাড়ি ও বারী শহরের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।